শ্রমজীবী-মেহনতি সাধারণের মার্কা কাস্তে

ঢাকা উত্তরে রুবেলের প্রচারণা, গণসংযোগ

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে সিপিবি’র প্রার্থী ডা. আহাম্মদ সাজেদুল হক (রুবেল)-এর প্রচারণা [ ছবি: রতন দাস ]
একতা প্রতিবেদক : ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের সিপিবি মনোনীত মেয়রপ্রার্থী ডা. আহম্মদ সাজেদুল হক রুবেল বলেছেন, ঢাকা শহরের অধিকাংশ শ্রমজীবী, মেহনতী, মধ্যবিত্ত ও বস্তিবাসীদের স্বার্থে বিগত সিটি মেয়ররা কোন কাজ করেনি। সিটি কর্পোরেশন দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। ফলে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও সাধারণ নগরবাসীর তা কাজে আসছে না। তিনি বলেন, এই দুর্নীতির কবল থেকে সিটি কর্পোরেশনকে মুক্ত করতে হলে লুটেরা বা ব্যবসায়ীনেতা দ্বারা তা হবে না। এর জন্য দরকার সৎ, যোগ্য ও দক্ষ নেতৃত্ব। তিনি দুর্নীতিমুক্ত সিটি কর্পোরেশন গড়ে তুলতে ও সাধারণ মানুষের কাছে সেবা পৌছে দেবার স্বার্থে তাঁকে কাস্তে মার্কাায় ভোট দিয়ে নির্বাচিত করার দাবি করেন। গণসংযোগকালে তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ভোটের অধিকার নিশ্চিত করা ও দুঃশাসনের অবসানের লক্ষ্যে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরি। তিনি বলেন, ঢাকার শহরের খেলার মাঠসহ অনেক সিটি কর্পোরেশনের সম্পত্তি বেদখল হয়ে আছে। তিনি এসব সম্পত্তি উদ্ধার করে যথাযথভাবে নগরবাসীর কাজে লাগানোর কথা বলেন। গত ১৭ জানুয়ারি শুক্রবার তেজগাঁও রেলগেট খালপাড়া, ফার্মগেট তেজকুনিপাড়া এলাকায় গণসংযোগ করে বিকাল ৩টায় নাবিস্কো পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। নাবিস্কো পথসভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র কাস্তে মার্কার প্রার্থী ডা. আহম্মদ সাজেদুল হক রুবেলসহ সিপিবি’র কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোহাম্মদ শাহ আলম,সহ সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন চন্দন, কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের সহ-সভাপতি পেশাজীবী আন্দোলনের নেতা অধ্যাপক ডা. আবু সাঈদ, সিপিবি’র কেন্দ্রীয় নেতা সাদেকুর রহমান শামীম, লুনা নূর, ঢাকা কমিটির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য জাহিদ হোসেন খান নেতৃবৃন্দ। এছাড়া বিকালে বাংলামোটর, ইস্কাটন, মগবাজার পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন সিপিবি নেতা বিকাশ সাহা, মুর্শিকুল ইসলাম শিমুল, ত্রিদিব সাহা, হযরত আলী, হকার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সেকান্দার হায়াৎ, মঞ্জুর মঈন। অন্যদিকে উত্তর কাফরুল-দক্ষিণ কাফরুল-কচুক্ষেত-ইব্রাহিমপুর-মিরপুর-১, মিরপুর-২, পাইকপাড়া এলাকায় পথসভা ও গণসংযোগ হয়। এসকল পথসভায় বক্তব্য রাখেন বৃহত্তর মিরপুরের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি’র চেয়ারম্যান তারিক হোসেন মিঠুল, সদস্য সচিব রিয়াজ উদ্দিন, কৃষক সমিতির কেন্দ্রীয় নেতা রোমান হায়দার, যুব ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খান আসাদুজ্জামান মাসুম, সিপিবি কাফরুল থানার নেতা আলী কাওসার মামুন, সিপিবি কাফরুল থানার সাধারণ সম্পাদক মামুন কবীর। এছাড়া বৃহত্তর উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় সিপিবি’র কাস্তে মার্কার পক্ষে নাগরিক কমিটির উদ্যোগ পথসভা ও গণ সংযোগ। মোহাম্মদপুর-হাতিরঝিল-বাড্ডায় পথসভা গণসংযোগে নেতারা অংশ নেন। আগেরদিন উত্তরা-দক্ষিণখানে পথসভা ও গণসংযোগে বলেছেন, ঢাকা শহর শুধু টাকাওয়ালাদের না। এখানে মেহনতি শ্রমিক, মধ্যবিত্তের সংখ্যাই বেশি। এরাই ঢাকাকে সচল রেখেছে। এজন্য প্রয়োজন সবার জন্য নিরাপদ ঢাকা; কর্মসংস্থানবান্ধব, সমতাভিত্তিক ঢাকা। আর এসব কাজে মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে অফিসকেন্দ্রিক মেয়র কার্যক্রম পরিবর্তন করে ওয়ার্ড ও মহল্লাভিত্তিক জনমণ্ডলীনির্ভর কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। নগর সরকার প্রতিষ্ঠা করাই হবে আমাদের মূল লক্ষ্য। গত ১৬ জানুয়ারি তার সঙ্গে গণসংযোগে আরও ছিলেন সিপিবি’র কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নারী নেত্রী লুনা নূর, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শ্রমিক নেতা রুহুল আমিন, সিপিবি উত্তরা শাখার সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, যুব ইউনিয়ন নেতা শরিফুল আনোয়ার সজ্জন। গণসংযোগে রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছাড়া ঢাকার উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব না। এজন্য নীতিনিষ্ঠ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে মেয়র নির্বাচিত করতে হবে। যারা ঢাকাকে লুটপাটের ক্ষেত্র বানিয়েছে, রাজনীতিতে নীতি বিসর্জন দিয়ে টাকাওয়ালাদের কাছে রাজনীতি বেঁচে দিয়েছে, তাদের পরাস্ত করাই এখন সময়ের দাবি। তিনি বলেন, রাজনীতি রাজনীতিবিদদের কাছে ফিরিয়ে আনতে হবে। তিনি ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রে এসে ভাট দিয়ে নিজেদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে ঢাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। কাস্তে মার্কার প্রার্থী ডা. রুবেল বলেন, ঢাকাকে দূষিত নগরীর তালিকা থেকে যেমন মুক্ত করা দরকার, তেমনই দূষণকারীদের প্রতিরোধ করাও দরকার। জনগণের জাগরণই পারে দূষণ ও দূষণকারী মুক্ত ঢাকা নগর গড়তে। এজন্য তিনি কাস্তে মার্কায় ভোট দিয়ে জন জাগরণ সৃষ্টির আহ্বান জানান। এসময় তিনি দক্ষিণখানের বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকদের সাথে গণসংযোগ করেন। এদিন সকাল থেকে মোহাম্মাদপুর, তেজগাঁও, হাতিরঝিল, গুলশান, মিরপুর, কাফরুল এলাকায় গণসংযোগ অনুষ্ঠিত হয়। গত ১৫ জানুয়ারি বিকালে মিরপুরে সিরামিক ফ্যাক্টরীর সামনে অনুষ্ঠিত পথ সভায় সিপিবি ঢাকা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রুবেল বলেছেন, ধনী আর গরিবের জন্য দুই ঢাকা নীতি আর চলবে না, শ্রমজীবী মানুষের নাগরিক হিস্যা বুঝে নিতে কাস্তে মার্কায় ভোট দিন। ঢাকা শহরের গরিব-মধ্যবিত্ত ৯৫%’র জন্য নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত। কারণ ক্ষমতাসীনরা এতদিন ধরে দুই ঢাকা নীতিতে কাজ করেছে। বড়লোকের জন্য এক ধরনের ব্যবস্থা, গরিবের জন্য আরেক ধরনের ব্যাবস্থা। একদিকে ভিআইপি রোড আরেক দিকে রিকসা-বস্তি-হকার উচ্ছেদ। মিরপুর কালসী এলাকায় জিএসএস দেয়াল দিয়ে আটকে দিয়েছে। নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষ সেখানে দুঃসহ পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। গ্যাস-পানি নেই। অনেকটা ছিট মহলের মতো দিন কাটাচ্ছে। কিন্তু দেখার কেউ নেই। বিগত সময়ে মেয়ররা শুধু মিথ্যা আশ্বাস দিয়েছেন। কার্যত কিছুই করেন নি। দুই কোটি মানুষের ঢাকা শহরে বিত্তবানদের জন্য সকল সুযোগ-সুবিধা বিদ্যমান। কিন্তু ঢাকার ৯৫% মূল জনগোষ্ঠী হল গরিব-মধ্যবিত্ত। তাদের জন্য ঢাকা শহরে বসবাস দুঃসহ হয়ে পড়েছে। যানজট, জলাবদ্ধতা, দূর্বল পয়ঃনিষ্কাশন, মশা, ভাঙ্গা রাস্তা, অপরিকল্পিত গণপরিবহন, অপর্যাপ্ত খেলাধূলা, বিনোদন সব মিলিয়ে এক বিপর্যস্ত পরিস্থিতি। প্রতিবছর সিটি কর্পোরেশনের বাজেট বাড়ছে। কিন্তু জনগণের সেবার মান কমছে। মশা নিধনের ক্ষেত্রে চরম অব্যবস্থাপনা ঢাকার মানুষ এবছর প্রত্যক্ষ করেছে। তিনি আরো বলেন, আমরা ভোটারদের কাছে গিয়ে কথা বলছি, গণসংযোগ করছি। তাদের মধ্যে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এ সংশয় দূর করার জন্য নির্বাচন কমিশনকেই পদক্ষেপ নিতে হবে। যদিও সাধারণ ভোটররা সুষ্ঠু ও নিরাপদ পরিবেশে ভোট দিতে উন্মুখ হয়ে রয়েছে। তারা বড় দুই দলের বিকল্প চায় বলেই বড়লোকের বড় মার্কা ফেলে কাস্তে মার্কাকে সমর্থন দিচ্ছে। জনগণ জেনে গেছে যে, তাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া ছাড়া বঞ্চনা থেকে মুক্তি নেই। একারণে শ্রমজীবী সাধারণ মানুষ দৃঢ় সংকল্প নিয়ে কাস্তে মার্কার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। এদিন পূরবী সিনেমা হলের সামনে থেকে শুরু হয়ে মিরপুর সাড়ে এগারো বাসস্ট্যান্ড, কালসী, মিরপুর ১২ নম্বর, সিরামিক ফ্যাক্টরির মোড়, পল্লবী, কালাপানি এলাকায় গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করা হয়। সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. রফিকুল ইমলাম, সিপিবি মগবাজারের কেন্দ্রীয় নেতা জাহিদ হোসেন খান, সিপিবি নেতা আসলাম খান, যুব ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খান আসাদুজ্জামান মাসুম, সিপিবি পল্লবী থানার নেতা বিপ্লব আল মাহমুদ প্রমুখ। একইদিন মোহাম্মাদপুর বাসস্ট্যান্ড-কৃষি মার্কেট এলাকায় কাস্তে মার্কার গণসংযোগ ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় বক্তব্য রাখেন আহসান হাবিব লাবলু, শংকর আচার্য। তেজগাঁও নাবিস্কো মোড়ে কাস্তে মার্কার গণসংযোগ শেষে পথসভায় বক্তব্য রাখেন শ্রমিকনেতা সাদেকুর রহমান শামীম, শহীদুল ইসলাম প্রমুখ। মগবাজার এলাকায় গণসংযোগ করেন মস্তান শের, জহিরুল ইসলাম। ১৪ জানুয়ারি, বিকালে কাজীপাড়া বাসস্ট্যান্ডে অনুষ্ঠিত পথসভায় সাজেদুল হক রুবেল বলেন, ঢাকার মূল জনগোষ্ঠী হল গরিব-মধ্যবিত্ত। তাদের জন্য ঢাকা শহরে বসবাস দুঃসহ হয়ে পড়েছে। যানজট, জলাবদ্ধতা, দূর্বল পয়নিষ্কাশন, মশা, ভাঙ্গা রাস্তা, অপরিকল্পিত গণপরিবহন, অপর্যাপ্ত খেলাধূলা, বিনোদন সব মিলিয়ে এক বিপর্যস্থ পরিস্থিতি। প্রতিবছর সিটি কর্পোরেশনের বাজেট বাড়ছে। কিন্তু জনগণের সেবার মান কমছে। বস্তি উন্নয়ন, কবরস্থান উন্নয়নে প্রতিবছর বাজেট আসে। কিন্তু সেই টাকা অনেকাংশে খরচ হয় না। মশা নিধনের ক্ষেত্রে চরম অব্যবস্থাপনা ঢাকার মানুষ এবছর প্রত্যক্ষ করেছে। একজন মেয়র ট্রাকে করে ময়লা এনে রাস্তায় ফেলে মিডিয়া ডেকে তারকাদের নিয়ে ময়লা পরিষ্কারের ফটোসেশন করেছেন। অথচ ঐ এলাকায় সবচেয়ে বেশি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। জনগণের সাথে এক ধরনের প্রহসন করা হচ্ছে। আমরা নির্বাচিত হলে ঢাকার প্রকৃত নাগরিকদের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। তিনি আরো বলেন, নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে পরিস্থিতি ততই নাজুক হচ্ছে। আচরণ বিধি লঙ্ঘনের প্রতিযোগিতায় নির্বিকার নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশন বলছে লিখিত অভিযোগ পেলে ওনারা দেখবেন। মনে হয় ওনাদের চোখ দিয়ে দেখার বা কান দিয়ে শোনার ক্ষমতা কোথাও বাধা পড়েছে। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে আওয়ামীলীগ-বিএনপির প্রার্থীরা নির্বাচনী মিছিল করছেন, সকাল থেকে মাইক প্রচার শুরু করছেন, রঙিন পোস্টার দেয়ালে সাঁটাচ্ছেন, কোথাও বা সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছেন। পত্রিকায়, মিডিয়িায় সেসব খবর বের হচ্ছে। ঢাকার ভোটাররাও তা চাক্ষুষ করছেন। অথচ নির্বাচন কমিশনের মোবাইল কোর্ট সেগুলো দেখেন না। আমরা ভোটারদের কাছে গিয়ে কথা বলছি, গণসংযোগ করছি। তাদের মধ্যে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এ সংশয় দূর করার জন্য কমিশনকেই পদক্ষেপ নিতে হবে। যদিও সাধারণ ভোটররা সুষ্ঠু ও নিরাপদ পরিবেশে ভোট দিতে উন্মুখ হয়ে রয়েছে। তাঁরা বড় দুই দলের বিকল্প চায়। সিপিবি হচ্ছে সেই বিকল্প শক্তি। এদিন সেনপাড়া ১ নম্বর বিল্ডিং, মিরপুর ১০ নম্বর, সেনপাড়া আমতলা বাজার, মসজিদ মোড়, পূর্ব কাজিপাড়া, ভিশন মোড়ে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করা হয়। দুপুর ৩টায় প্রথমে কাজিপাড়া বাসস্ট্যান্ড ও শেওড়াপাড়ায় পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন, সিপিরি কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ জহির চন্দন, কেন্দ্রীয় নেতা ডা. ফজলুর রহমান, আসলাম খান, যুব ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খান আসাদুজ্জামান মাসুম, সিপিবির কাফরুল থানার নেতা আলী কাউসার মামুন, আসাদুজ্জামান আজিম, গৌতম রায়। আগেরদিন আদাবর শনিরবিলে অনুষ্ঠিত পথ সভায় রুবেল বলেছেন, ঢাকা থেকে একের পর এক বস্তি উচ্ছেদ করা হয়েছে। এদের অনেকেই বাউনিয়া বাঁধ, শনির বিল এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে। এখন সেখানেও তাঁরা নিরাপত্তাহীন থাকছেন। এভাবে দেশের নাগরিকদের দুঃসহ জীবন মেনে নেয়া যায় না। আমরা নির্বাচিত হলে বস্তি উচ্ছেদ না, বস্তির পরিবেশ উন্নয়নে কাজ করব। তিান এদিন শেখেরটেক ১ থেকে শুরু করে ১৭ নম্বর রোড, মুনসরেবাদ হয়ে আদাবর এলাকায় গণসংযোগ শেষে প্রথমে আদাবর শনিরবিল ও পরে ঢাকা উদ্যানে পৃথক দুটি পথসভায় বক্তব্য দেন। এসব সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট আহসান হাবিব লাবলু, ঢাকা কমিটির সভাপতি মোসলেহ উদ্দিন, সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতা লুনা নূর, সাদিকুর রহমান শামিম, শ্রমিকনেতা আসলাম খান, কৃষক নেতা মোতালেব হোসেন, যুবনেতা আলী কাউসার মামুন, নুরুজ্জামান। কাস্তে মার্কার পক্ষে একইদিন মিরপুর ১৩, রাকিন সিটি, মিরপুর ১৪ নম্বর পুলিশ ব্যাটেলিয়ান, কচুক্ষেত তেজগাাঁও, কুনিপাড়া এলাকায় মাইক প্রচার ও গণসংযোগ করা হয়। সিপিবি নেতাকর্মীরা ১২ জানুয়ারি সকাল থেকেও মোহাম্মাদপুর টাউন হল, ইকবাল রোড, লালমাটিয়া এলাকায় গণসংযোগ করেছেন। বিকালে মোহাম্মাদপুর টাউন হল ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অনুষ্ঠিত পথসভায় কাস্তে মার্কার প্রার্থী ডা. সাজেদুল হক রুবেল বলেন, আমরা নির্বাচিত হলে শ্রমজীবী, নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষ ও দলিত জনগোষ্ঠীর নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা হবে। সকল নাগরিকের সমান সুযোগ নিশ্চিতের মাধ্যমে ২ কোটি জনসমুদ্রের এ মহানগরকে মানবিক ঢাকায় রূপান্তরিত করা হবে। সচল, পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও বাসযোগ্য ঢাকার জন্য নগর সরকার প্রতিষ্ঠা ছাড়া বিকল্প নেই। নগর সরকার, বিকল্প রাজনীতি ও ভোটাধিকারের নিশ্চিতের জন্য সংগ্রাম করতে হবে। এসময় উপস্থিত ছিলেন সিপিবি’র সহ-সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ জহির চন্দন, কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সম্পাদক এবং প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট আহসান হাবীব লাবলু, কেন্দ্রীয় নেতা লুনা নূর, ঢাকা কমিটি’র সভাপতি মোসলেহ উদ্দিন, ঢাকা কমিটির নেতা শংকর আচার্য, আসলাম খান, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির নেতা জামাল হায়দার, ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ফেরদৌস আহমেদ উজ্জ্বল, যুব ইউনিয়ন নেতা শিমুল খান, আহমেদ তালাত তাজিব। ডা. রুবেল এরপরে মোহাম্মদপুর এলাকার বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার কর্মী ও দলিত জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক করেন। একইদিন সকালে সেনপাড়া ভিশন মোড়, পুলপাড়, কাজীপাড়া, ইব্রাহীমপুর, উত্তর কাফরুলসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রার্থীর পক্ষে গণসংযোগ করা হয়। এসময় কাফরুল ১নং বিল্ডিংয়ে গার্মেন্টস কর্মীদের মাঝে লিফলেট বিতরণ করা হয়। উত্তর কাফরুলে অনুষ্ঠিত পথসভায় বক্তব্য রাখেন যুব ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খান আসাদুজ্জামান মাসুম, সিপিবি কাফরুল থানার সভাপতি শহিদুল ইসলাম, যুবনেতা রাসেল ইসলাম সুজন, সিপিবি ১৪নং ওয়ার্ড সভাপতি আলী কাওছার মামুন, সম্পাদক আসাদুজ্জামান আজীম, ১৬নং ওয়ার্ড নেতা মির্জা রাশেদ তানজিল, উদীচী নেতা রোকেয়া সুলতানা বিলু, সালিমা জান্নাত তমা। বিকালে তেজগাঁও নাবিস্কো মোড়, শিল্পাঞ্চল এলাকায় গণসংযোগ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সিপিবি কেন্দ্রীয় নেতা সাদেকুর রহমান শামীমসহ তেজগাঁও থানা সিপিবি’র নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। এছাড়া বাড্ডা, খিলগাঁও, রামপুরা, গোড়ান, বনশ্রী এলাকায় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে প্রচারণা চলে। ১১ জানুয়ারি সকাল ১১টায় মিরপুর ১০ নম্বর সেনপাড়া-কাজীপাড়া- শেওড়াপাড়ায় গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করা হয়। বিকাল ৪টা থেকে মিরপুর-১০, সেনপাড়া, কাজীপাড়া, ইব্রাহিমপুর কচুক্ষেত, কাফরুল, পুলপাড়, উত্তর কাফরুলসহ বিভিন্ন পয়েন্টে গণসংযোগ ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয় এসব পথসভায় বক্তব্য রাখেন সিপিবি’র প্রার্থী ডা. কমরেড আহাম্মদ সাজেদুল হক রুবেল, সিপিবি কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য আহসান হাবীব লাবলু, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খান আসাদুজ্জামান মাসুম, সিপিবি কাফরুল থানার সভাপতি শহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক রাসেল ইসলাম সুজন, সিপিবি ১৪নং ওয়ার্ড এর সভাপতি আলী কাউসার মামুন, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আজীম, সিপিবি কাফরুল থানার নেতা হাসনাহিন শান্ত। এসব পথসভায় ডা. আহাম্মদ সাজেদুল হক রুবেল বলেন, বড় দুই শাসক শ্রেণির দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র মেয়র প্রার্থী গতকাল নির্বাচনের প্রথম দিনেই প্রথম মুহূর্তেই নির্বাচনী আচরণ লঙ্ঘন করে প্রচার কার্যক্রম শুরু করেন যা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধতা করবে। অবিলম্বে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি দাবি জানান তিনি।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..