কৃষিজমির টপ সয়েল যাচ্ছে ইটভাটায়

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
ময়মনসিংহ সংবাদদাতা : ময়মনসিংহের নান্দাইলে ইটভাটায় ব্যবহার হচ্ছে টপ সয়েল বলে পরিচিত কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি। এতে জমির উর্বরতা কমে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন কৃষি কর্মকর্তারা। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারির অভাবে এক শ্রেণির দালাল কৃষকদের ফুসলিয়ে এ মাটি কিনে নিচ্ছে। তাছাড়া ট্রলি ও ট্রাক দিয়ে মাটি পরিবহনের কারণে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নান্দাইল উপজেলায় বর্তমানে ২১টি ইটভাটা রয়েছে। এর বেশির ভাগের লাইসেন্স নেই। এসব ভাটায় ইট তৈরিতে ব্যবহার হচ্ছে ফসলি জমির টপ সয়েল। দামে সস্তা ও পরিবহন সহজতর হওয়ায় ভাটা মালিকরা দালালদের মাধ্যমে এ মাটি কিনছেন। উপজেলার মশুল্লী, সিংরইল, গাংগাইল, আচারগাঁও ও নান্দাইল ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এসব এলাকায় কৃষকরা টপ সয়েল ইটভাটায় বিক্রি করে দিচ্ছেন। এ ব্যাপারে উভয়পক্ষের সমঝোতার পর ভাটা মালিকরা জমির উপরিভাগের দুই থেকে তিন ফুট মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দালালরা মাটি তুলে নিলে জমির উর্বরতা বাড়বে বলে জানিয়ে কৃষকদের বিভ্রান্ত করছেন। সূত্র জানায়, লোভে পড়ে কৃষকরা মাটি বিক্রি করছেন। আর সুযোগ নিয়ে তাদের প্রতারিত করছেন ইটভাটা মালিক ও দালালরা। আইনে কৃষিজমির মাটি ভাটায় ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই আইন লঙ্ঘনের জন্য সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে এ ব্যাপারে প্রশাসনের কোনো নজরদারি বা তদারকি নেই। স্থানীয়রা জানান, মাটি পরিবহনকারী ট্রলি ও ট্রাকগুলোর কারণে ভোগান্তির কোনো শেষ নেই। এতে রাস্তা দেবে যায়। কারণ এ গ্রামীণ সড়কগুলো ভারী যানবাহন চলাচলের উপযোগী নয়। আবার যেখানে সেখানে মাটি পড়ায় রাস্তায় চলাচলে সমস্যা হয়। ইটভাটার মাটি পরিবহনে নিযুক্ত আল আমিন নামের একজন ট্রলিচালক বলেন, আমরা চুক্তিভিত্তিক কাজ করি। দিন শেষে দুই হাজার টাকার মতো থাকে। আমাদের যেখান থেকে নিতে বলে সেখানে যাই। ক্ষেতের মাটি, নাকি অন্য কোথাও থেকে নেয়া হয়েছে, সেটা আমরা দেখি না। এক ইটভাটা মালিক বলেন, আমরা টাকার বিনিময়ে কৃষকদের কাছ থেকে মাটি কিনে আনি। কৃষকরা ইচ্ছে করেই আমাদের কাছে মাটি বিক্রি করেন। এ নিয়ে কৃষকদের কোনো অভিযোগ নেই। মাটি কাটা হলেও ফসলি জমির কোনো ক্ষতি হয় না। এ ব্যাপারে নান্দাইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ বলেন, উর্বর মাটি তৈরি হতে অনেক বছর সময় লাগে। একটি উদ্ভিদের ১৬ প্রকার খাদ্যের মধ্যে মাটিতে ১৩ প্রকার খাদ্য উপাদান রয়েছে। ফসলি জমির উপরিভাগ চার থেকে ছয় ইঞ্চি মাটি বেশি উর্বর। তাই এভাবে উর্বর মাটি ভাটায় চলে গেলে ভবিষ্যতে ২০-৩০ শতাংশ হারে ফসল উৎপাদন হ্রাস পাবে। নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আব্দুর রহিম সুজন জানান, আমি এ ব্যাপারে কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..