আদালত অমান্য করে কাটা হচ্ছে পাহাড়

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
চট্টগ্রাম সংবাদদাতা : চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির রামগড়-সীতাকু- সংরক্ষিত বনাঞ্চলে সব ধরনের অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে বনে অনুপ্রবেশে স্থিতাবস্থা জারি করেন আদালত। বনের জমি নিয়ে চলমান মামলার কারণে এ স্থিতাবস্থা জারি করা হয় ২০১৭ সালে। তবে আদালতের নির্দেশ অমান্য করেই সম্প্রতি বনের পাহাড় কাটার অভিযোগ উঠেছে হালদা ভ্যালি টি এস্টেট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। বন বিভাগের অভিযোগ, এর আগেও সংরক্ষিত বনে পাহাড় কাটতে গেলে হালদা ভ্যালি টি এস্টেটকে বেশ কয়েকবার প্রতিহত করা হয়। কিন্তু আদালতের নির্দেশ অমান্য করে ফের বনের পাহাড় কাটা হচ্ছে, যা আদালত অবমাননার শামিল। বনের জমি নিয়ে যেহেতু মামলা চলমান, সেহেতু চা বাগান কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই জমি দখল কিংবা পাহাড় কাটতে পারে না। চট্টগ্রাম বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি গেজেটে ভুলবশত রামগড়-সীতাকু- সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ৯৫২ দশমিক ৯৬ একর ডেপুটি কমিশনারের নামে রেকর্ড হয়। যার মধ্যে বাদুরখিল মৌজার কয়েকটি দাগে মোট ১৩৪ দশমিক ৩২ একর হালদা ভ্যালি চা বাগানকে ইজারা দেয় জেলা প্রশাসন। এ অবস্থায় এ সংরক্ষিত বনভূমি নিজেদের নামে রেকর্ড করার জন্য আদালতে মামলা করে বন বিভাগ। যার পরিপ্রেক্ষিতে বনে অনুপ্রবেশে স্থিতাবস্থা জারি করেন আদালত। তবে আদালতের এ নির্দেশের পরও চা বাগান কর্তৃপক্ষের দখল থেমে নেই। এরই মধ্যে তারা সংরক্ষিত বনভূমির বিভিন্ন অংশে ২৫০ থেকে ৩০০ একর নিজেদের দখলে রেখেছে। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. বখতিয়ার নূর সিদ্দিকি বলেন, আদালতের স্থিতাবস্থা থাকার পরও হালদা ভ্যালির লোকজন সংরক্ষিত বনের পাহাড় কেটেই চলেছে। আমাদের রেঞ্জ কর্মকর্তা তাদের বেশ কয়েকবার বাধাও দিয়েছেন। এ বিষয়ে আমরা আইনি পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছি। এদিকে ইজারা পাওয়ার বহু আগে থেকেই হালদা ভ্যালি চা বাগান কর্তৃপক্ষ সংরক্ষিত এ বনে পাহাড় কাটা ও জমি দখলের চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে। বন বিভাগের নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ২০০৬ সালে ফটিকছড়ির ইদিলপুর ব্লকে হালদা ভ্যালি চা বাগানের লোকজন সংরক্ষিত বনে প্রবেশ করে। তখন ফটিকছড়ি থানায় মামলা করে বন বিভাগ। এ পরিপ্রেক্ষিতে চা বাগান কর্তৃপক্ষ সংরক্ষিত বনে অবৈধ অনুপ্রবেশ করবে না বলে ২০১০ সালে অঙ্গীকারনামা দেয়। তবে পরবর্তীতে সে অঙ্গীকারনামা মানা হয়নি। এমনকি ২০১৫ সালে জমি দখল করে পিলার স্থাপন ও পাহাড় কাটাসহ বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজেও বাধা দেয় চা বাগান কর্তৃপক্ষ। এ অবস্থায় ২০১৭ সালের ১৩ মে চা বাগানের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ভুজপুর থানায় এজাহার করা হয়। এজাহারে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর বন আদালতে বিভিন্ন ধারায় ১৮টি মামলা করে বন বিভাগ। এছাড়া থানায়ও একাধিক মামলা করা হয়। একইসঙ্গে সংরক্ষিত বনের জমির রেকর্ড সংশোধনের জন্যও আদালতের দ্বারস্থ হয় বন বিভাগ। যার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ২০১৭ সালের ৪ জুন সংরক্ষিত বনভূমিতে অনুপ্রবেশে স্থিতাবস্থার আদেশ দেন। বন বিভাগের নারায়ণহাট রেঞ্জের কর্মকর্তা সুরজিৎ চৌধুরী বলেন, ১ জানুয়ারি এক্সক্যাভেটর দিয়ে চা বাগানের লোকজন নতুন করে সংরক্ষিত বনের পাহাড় কাটা শুরু করে। আমরা এ কাজে তাদের বাধা দিই। যেহেতু এটি আদালতের নির্দেশের অবমাননা, তাই আমরা বিষয়টি আদালতকে অবহিত করব। জানা গেছে, ২০০৯ সালে হালদা ভ্যালি চা বাগান এ সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ৫০০ একর নিজেদের অনুকূলে বরাদ্দ পেতে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ে আবেদন করে। তবে তাদের এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বনভূমি বরাদ্দ দেয়ার সুযোগ নেই বলে জানানো হয়। এরই মধ্যে চা বাগান কর্তৃপক্ষ আগের ১৩৪ দশমিক ৩২ একরসহ মোট ৮৩৪ দশমিক ৩৫ একর জমি ইজারা পাওয়ার জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেছে। আর জেলা প্রশাসনকে নতুন করে বনভূমি ইজারা না দেয়ার জন্য চিঠি দিয়েছে বন বিভাগ। জেলা প্রশাসনকে দেয়া ওই চিঠিতে বন বিভাগ জানিয়েছে, হালদা ভ্যালি চা বাগান কর্তৃপক্ষ বনের মোট ৮৩৪ দশমিক ৩৫ একর জমি ইজারার জন্য আবেদন করেছে। এ জমি বন বিভাগের নামে না হলেও ডেপুটি কমিশনারের নামে রেকর্ডভুক্ত। ফলে তা সরকার সংরক্ষিত বনভূমি। তাই এ সংরক্ষিত বনভূমি যেন হালদা ভ্যালি টি এস্টেটের কাছে ইজারা না দেয়া হয়। এ বিষয়ে হালদা ভ্যালি চা বাগানের ব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমরা সংরক্ষিত বনের কোনো জমি দখল করিনি। আমাদের নিজস্ব জায়গায় কিছু সংস্কার কাজ চলছে। আমরা সংরক্ষিত বনের মধ্যে কোনো দখল বা পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত নই। তাছাড়া আদালতের স্থিতাবস্থা আমাদের চা বাগানের ওপর বর্তায় না। তাই আমাদের প্রতি বন বিভাগের অভিযোগ ভিত্তিহীন।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..