কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম বন্ধ, ভোগান্তিতে রোগী

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
গাজীপুর সংবাদদাতা : গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার লোহাগাছ কমিউনিটি ক্লিনিকের মূল ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয় দুই বছর আগে। এর পর সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবার জন্য ক্লিনিকঘেঁষে থাকা একটি মাটির ঘর থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো। সেটিও বর্তমানে বন্ধ। গত শনিবার ঝুঁকিপূর্ণ মাটির ঘরের চালের কাঠ খসে পড়ে এক স্বাস্থ্যকর্মী আহত হয়েছেন। এরপর থেকে কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে কমিউনিটি ক্লিনিকটির। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সেবা নিতে আসা রোগীরা। স্থানীয় ও স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শ্রীপুর পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের একটি গ্রাম লোহাগাছ। গ্রামে সাড়ে আট হাজার লোকের বাস। এলাকার লোকজনের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের লক্ষ্যে ২০০০ সালে সরকার ওই গ্রামে কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ করে। প্রতিদিন ওই ক্লিনিকে ৩০-৪০ জন মা ও শিশুর সেবা দেয়া হতো। রেললাইনঘেঁষে স্থাপিত ক্লিনিকটির বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দেয় কয়েক বছর আগে। ২০১৭ সালে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে পার্শ্ববর্তী একটি মাটির দেয়ালঘেরা ক্লাবঘরে কার্যক্রম স্থানান্তর করা হয়। মাটির দেয়ালঘেরা ক্লাব ঘরটিও নির্মাণ করা হয়েছিল ১৯৮২ সালে। সেটিও ছিল ঝুঁকিপূর্ণ। গত শনিবার বেলা পৌনে একটার দিকে ওই মাটির ঘরে দায়িত্ব পালনকালে কাঠ খসে পড়ে স্বাস্থ্যকর্মী মাথায় আঘাত পান। এরপর থেকেই বন্ধ হয়ে যায় চিকিৎসা কার্যক্রম। ঠাণ্ডাজনিত জ্বরে আক্রান্ত দেড় বছরের নাতিকে নিয়ে ক্লিনিকে এসে বন্ধ দেখে ফিরে যাচ্ছিলেন জোহরা আক্তার। তিনি জানান, গ্রামে স্বল্প আয়ের মানুষের বসবাস। তাই তাদের চিকিৎসা নেয়ার অন্যতম স্থান ছিল এ ক্লিনিক। দেড় মাইল পথ হেঁটে এসে ক্লিনিকটি বন্ধ দেখে ফিরে যেতে হচ্ছে। ভবন সংস্কার করে দ্রুত ক্লিনিকটি চালুর দাবি জানান তিনি। লোহাগাছ গ্রামের শাহজাহান আলী জানান, মূল ভবনটি যেমন ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, তার চেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ মাটির এ ঘরটি। মাটির ঘরের বিভিন্ন অংশ ধসে যেকোনো সময় প্রাণহাণির ঘটনা ঘটতে পারে। কর্মী আঘাত পেয়ে চিকিৎসাসেবা বন্ধ হওয়ায় এলাকার মানুষের দুর্ভোগ আরো বেড়েছে। শ্রীপুর পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবু সাইদ জানান, প্রান্তিক মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতেই এখানে কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ করা হয়েছিল। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের কারণে বর্তমানে সেবা বন্ধ রয়েছে। মাথায় আঘাত পাওয়া কমিউনিটি হেলথ প্রোভাইডার ফারজানা সুলতানা জানান, দুজন চিকিৎসাকর্মীসহ তিনজন মিলে এ কমিউনিটি ক্লিনিকে সেবা দেয়া হতো। পাশ দিয়ে ট্রেন আসা-যাওয়ার সময় ক্লিনিকের মূল ভবন কেঁপে উঠত। এরপর চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখতে পাশের মাটির ঘরেই কার্যক্রম পরিচালিত হতো। দায়িত্ব পলনকালে ছাদের একটি কাঠ খসে তিনি মাথায় আঘাত পান। এরপর তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ছুটতে হয়েছে। শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা মইনুল হক খান জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের কারণে ঠিকমতো সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ক্লিনিকের কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে চিকিৎসাকর্মী মাথায় আঘাত পেয়েছেন। রোগী ও চিকিৎসকদের জীবনের ঝুঁকি থাকায় আপাতত এখানকার চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। দ্রুত ভবন নির্মাণ করে চিকিৎসাসেবা শুরু করা হবে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..