উপকূলীয় এলাকায় তীব্র হচ্ছে সুপেয় পানির সংকট

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
বাগেরহাট সংবাদদাতা : দীর্ঘদিন ধরেই সুপেয় পানির সংকটে ভুগছে বাগেরহাটের উপকূলীয় ছয় উপজেলার মানুষ। এবার শুষ্ক মৌসুম শুরুর সঙ্গে সঙ্গে এ সংকট আরো তীব্র হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, পর্যাপ্ত উৎস না থাকায় তারা সুপেয় পানি পাচ্ছে না। এ অবস্থায় পানিবাহিত রোগের কারণে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিয়েছে। উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটের নয় উপজেলার মধ্যে ছয়টিই শুষ্ক মৌসুমে সুপেয় পানির তীব্র সংকট থাকে। উপজেলাগুলো হলো সদর, রামপাল, মোংলা, মোড়েলগঞ্জ, শরণখোলা ও কচুয়া। লবণাক্ততার এসব উপজেলায় নলকূপ নেই। ফলে এসব উপজেলার বাসিন্দাদের পান করতে হচ্ছে বৃষ্টি ও পুকুরের পানি। জানা গেছে, ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডরের পর থেকে উপজেলাগুলোয় স্থানীয় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা আড়াই হাজার পিএসএফ (পন্ড স্যান্ড ফিল্টার) স্থাপন করে। কিন্তু বর্তমানে এসব পিএসএফের বেশির ভাগই অকেজো। ফলে সুপেয় পানির সংকট আরো তীব্র আকার ধারণ করেছে। শরণখোলার চালিতাবুনিয়া গ্রামের গৃহবধূ শ্যামলী দেবনাথ বলেন, বর্ষা মৌসুমে আমরা বৃষ্টির পানি পান করি। কিন্তু শুষ্ক মৌসুম এলেই পানির কষ্ট শুরু হয়। বাড়ি থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূর থেকে পুকুরের পানি সংগ্রহ করে নিয়ে আসতে হয়। অনেক সময় ব্যবহার করতে হয় মজা পুকুরের পানিও। অপরিশোধিত এ পানি ব্যবহারের ফলে পেটের ব্যথা, বমি ও ডায়রিয়ায় ভুগতে হয়। কিন্তু এ পানি পান করা ছাড়া আমাদের উপায় নেই। এছাড়া প্রফুল্ল চন্দ্র, আব্বাস তালুকদারসহ আরো অনেকে বলেন, পিএসএফগুলো অযত্ন-অবহেলায় নষ্ট হয়ে গেছে। এগুলো সংস্কারের পাশাপাশি ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত ট্যাংক দিলে পানির সংকট কিছুটা কমবে। বাগেরহাটের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন পুলক দেবনাথ বলেন, শীতের সময় এসব এলাকার মানুষ তুলনামূলক বেশি রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। অধিকাংশই আক্রান্ত হচ্ছে পানিবাহিত রোগে। উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোয় পানিবাহিত রোগ নির্ণয় ও নিরাময়ের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। বাগেরহাট জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম শামীম আহমেদ বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে উপকূলীয় উপজেলাগুলোয় এক লাখ ট্যাংক বিতরণ প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে রয়েছে। এসব ট্যাংকে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করা যাবে। এটি বাস্তবায়ন হলে পানির সংকট অনেকটা কমে আসবে। এছাড়া পানির সংকট সমাধানে গত দুই বছরে ওই ছয় উপজেলায় ৬৫টি পুকুর খনন করা হয়েছে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..