মণি সিংহ মেলা সমাপ্ত

‘শোষণমুক্ত সমাজ গড়ার শপথ নিতে হবে’

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

কমরেড মণি সিংহ মেলায় সিপিবি সহ-সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ জহির চন্দনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ
একতা প্রতিবেদক : কমরেড মণি সিংহ সারাজীবন শোষণমুক্ত সমাজ কায়েমে লড়াই করেছেন। ব্রিটিশ তাড়ানোর আন্দোলনে কিশোর বয়স থেকেই সশস্ত্র লড়াই ও পাকিস্তানের স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে বার বার জেল-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তিনি। শত নির্যাতনের মুখেও অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করে গরিব কৃষক-শ্রমিকদের রাজ কায়েমের লড়াই চালিয়ে গেছেন কমরেড মণি সিংহ। অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে সাতাত্তর বয়সেও জেলে যেতে হয়েছে কমরেড মণি সিংহকে। কমরেড মণি সিংহর স্বপ্ন গরিব মেহনতি মানুষের জন্য শোষণমুক্ত সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশ কায়েমের শপথ নিতে হবে। উনত্রিশতম মৃত্যুবার্ষিকীতে কমরেড মণি সিংহ স্মরণে প্রতিবারের ন্যায় এবারও গত ৩১ ডিসেম্বর মঙ্গলবার থেকে ৬ জানুয়ারি সোমবার পর্যন্ত সাতদিনব্যাপী কমরেড মণি সিংহ মেলা নেত্রকোণা জেলার সুসঙ্গ দূর্গাপুরে টঙ্ক শহীদ স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে। মেলার মূলমঞ্চে আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। আলোচনা সভায় বক্তাগণ আরও বলেন, আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর দারপ্রান্তে। কিন্তু আজও ত্রিশ লক্ষ শহীদ ও মাবোনের ইজ্জতের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার স্বপ্নসাধ বাস্তবায়িত হয়নি। কৃষক ধানসহ ফসলের লাভজনক দাম পাচ্ছে না। শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরি থেকে হচ্ছে বঞ্চিত। এখনও দেশে ধনী-গরিবের বৈষম্য দিন দিন বেড়েই চলেছে। ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে। সরকার দলীয় লোকজন টাকার পাহাড় গড়ছে। লুটপাট-দুর্নীতি-ঘুষ আজ সমাজের সর্বস্তরে বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষের সন্তানের চাকুরির নিশ্চয়তা নেই। সাতদিনব্যাপী মেলায় প্রতিদিন একাধিক বিষয়ভিত্তিক আলোচনা সভার পাশাপাশি প্রতিদিন মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন বিভিন্ন সংগঠন ও বিদ্যালয়ের শিল্পীবৃন্দ। মেলাপ্রাঙ্গণে প্রায় পাঁচ শতাধিক স্টলে মানুষের ব্যবহার্য নানারকম জিনিসপত্র, নাগরদোলাসহ শিশুদের খেলনা ও দেশীয় খাবারের দোকান ছিল। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দূরদূরান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ মেলাপ্রাঙ্গণে ভিড় করেন। আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করা ছাড়াও সাধারণ মানুষ তাঁদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনাকাটা করেন। মেলার শেষদিনে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সাতদিনব্যাপী অনুষ্ঠিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও কমরেড মণি সিংহের সন্তান ডা. দিবালোক সিংহ, কিশোরগঞ্জ জেলা সিপিবি নেতা আব্দুর রহমান রুমী, জেলা পরিষদ সদস্য আলী আজগর, এএসপি (দুর্গাপুর সার্কেল) মাহমুদ শারমিন নেলী। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন আল আজাদ। গত ৩১ ডিসেম্বর মেলার উদ্বোধনী দিনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিপিবি সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম। মেলা উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক দুর্গাপ্রসাদ তেওয়ারির সভাপতিত্বে আরও আলোচনা করেন জাসদ নেতা ডা. মোস্তাক হোসেন, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের নেতা অসিত বরণ সরকার, সাবেক সাংসদ ছবি বিশ্বাস, সিপিবি’র কেন্দ্রীয় নেতা ডা. দিবালোক সিংহ, ময়মনসিংহ জেলার সভাপতি এমদাদুল হক মিল্লাত প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। দ্বিতীয় দিনে আলোচনা করেন গবেষক আলী আহমদ খান আইয়োব, প্রভাষক দিপক সরকার ও ডা. দিবালোক সিংহ। সভাপতিত্ব করেন আয়কর উপদেষ্ঠা অজয় সাহা। তৃতীয় দিনের বিকালের আলোচনা সভায় বক্তৃতা করেন যুব ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খান আসাদুজ্জামান মাসুম, ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মেহেদী হাসান নোবেল, দুর্গাপুর উপজেলা যুব ইউনিয়ন সভাপতি নজরুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা আব্দুল হামিদ, কৃষক সমিতির মোর্শেদ আলম। পরিচালনা করেন ছাত্র ইউনিয়ন নেতা শাহান আলী। সন্ধ্যায় আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন দুর্গাপুুর পৌরসভার মেয়র মাওলানা আব্দুস সালাম। বক্তব্য রাখেন, মুক্তিযোদ্ধা সোহরাব হোসেন তালুকদার, কবি সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ প্রমুখ। মেলার চতুর্থ দিনে আলোচনা সভায় বক্তৃতা করেন শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়-নেত্রকোণার ভিসি অধ্যাপক ড. রফিকউল্লাহ খান, উদীচীর সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন, গবেষক ড. মোস্তাফিজুর রহমান শাহীন ও জেলা উদীচীর সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা চেয়ারম্যান ফেরদৌস আরা ঝুমা। মেলার পঞ্চম দিনে বিকালের আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সাংসদ মানু মজুমদার, ডা. দিবালোক সিংহ, অধ্যাপক সুস্থির রঞ্জন তালুকদার, মুক্তিযোদ্ধা সোহরাব হোসেন তালুকদার, স্বপন সান্যাল, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ হক, ময়মনসিংহ জেলা সিপিবি নেতা হারুন আল বারী ও মোফাচ্ছেল হক বাচ্চু। সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, ক্ষেতমজুর সমিতির সহ সাধারণ সম্পাদক অর্ণব সরকার, জেলা কৃষক লীগের সভাপতি কেশবরঞ্জন সরকার ও উপজেলা সিপিবি সাধারণ সম্পাদক রূপন কুমার সরকার। ষষ্ঠ দিনের বিকালে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা আদিবাসী ইউনিয়নের সভাপতি পঙ্কজ মারাক। বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক রেমন্ড আরেং ও সিপিবি নেতা ডা. দিবালোক সিংহসহ অন্যান্য আদিবাসী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। সভা পরিচালনা করেন নিরন্তর বনোয়ারী। আলোচনা সভায় বক্তাগণ আরও বলেন, আদিবাসীদের অধিকার আদায়ে কমরেড মণি সিংহের চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। কমরেড মণি সিংহের নেতৃত্বে গড়ে উঠা কৃষকের টঙ্গ আন্দোলনে রাশিমনী, সুরেন্দ্রসহ অসংখ্য যোদ্ধা শহীদ হয়েছেন। শহীদের আত্মদান যাতে বৃথা না যায় সেজন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। সভায় বক্তাগণ কমরেড মণি সিংহের সংগ্রামী জীবনী পাঠ্যবইয়ে ছাপানোর দাবি করে বলেন, ইতিহাস নতুন প্রজন্মকে সঠিকভাবে জানাতে হবে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..