‘সিআইএ’ এবং ‘র’ ঠেকাতে নতুন আইন নেপালে

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : নেপালের পার্লামেন্টে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ইন্টিলিজেন্স এজেন্সি (সিআইএ) ও ভারতের রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং (র)সহ বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থার অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নতুন বিল উপস্থাপন করা হয়েছে। দেশটির জাতীয় পরিষদের সদস্য রাম নারায়ণ বিদারি ‘নেপাল স্পেশাল সার্ভিস বিল ২০১৯’ নামে এই নতুন আইনের কথা জানিয়েছেন। শাসক দল নেপালের কম্যুনিস্ট পার্টির আইনপ্রণেতা বিদারি বলেন, ‘নেপালের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নাক গলাচ্ছে সিআইএ ও র’র মতো বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। তাদের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে আনা উচিত। আমি বিশ্বাস করি, এই বিল প্রণীত হলে আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তাদের অযাচিত হস্তক্ষেপ কমবে।’ এ খবর দিয়েছে নেপালের পত্রিকা মাই রিপাবলিকা। রাম নারায়ণ বিদারি আরও বলেন, ‘এ দেশে সিআইএ ও ‘র’ যেসব গোপন মিশন বাস্তবায়ন করে, সে বিষয়ে তথ্য জানা থাকতে হবে নেপালি সরকারের। এজন্য প্রয়োজনে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের ফোনকলে আড়ি পাতা উচিত সরকারের।’ তবে প্রধান বিরোধী দল নেপালি কংগ্রেস এই বিল নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। বিরোধিতা সত্ত্বেও সরকার এই বিল জাতীয় পরিষদে উত্থাপন করেছে। এই বিল পাস হলে নেপালের নিজস্ব গোয়েন্দা সংস্থা, বিশেষ করে জাতীয় তদন্ত বিভাগ সন্দেহভাজন বৈদেশিক এজেন্টদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে। জাতীয় পরিষদে এ বিষয়ে এক বৈঠকে অর্থমন্ত্রী যুবরাজ খাতিওয়াড়াও বিলের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এই বিল দেশের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা বাহিনীকে শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যেই প্রণয়ন করা হচ্ছে, যেন তারা জাতীয় নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রতি হুমকি রুখে দিতে পারে।’ বিলে বলা হয়, গুপ্তচরবৃত্তি, নাশকতা ও বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ রাখা প্রয়োজন। এছাড়া দেশের জাতীয় সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে। বিলের ১০ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে কিছু সন্দেহজনক হলে তার অডিও আলাপচারিতা নজরদারির আওতায় আনা যাবে। বিরোধী দল কংগ্রেস অবশ্য যুক্তি দেখিয়েছে যে, এ বিল দেশের সংবিধান ও স্বাধীনতার আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের চেতনাবিরোধী। সম্প্রতি এক অধিবেশনে দলটির আইনপ্রনেতা প্রকাশ পান্তা বলেন, তার দল এ প্রস্তাবিত বিলের বিরুদ্ধে। তিনি দাবি করেন, সরকার বিরোধীদের স্তব্ধ করার লক্ষ্যেই এ বিল প্রণীত হয়েছে। তিনি বলেন, এ বিল কোনো ব্যক্তির মৌলিক স্বাধীনতা ও ব্যক্তির গোপনীয়তার অধিকারের লঙ্ঘন। তিনি সরকারের প্রতি বিলটি প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..