ব্রেক্সিটের চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : বরিস জনসনের সরকার ৩১ জানুয়ারি ব্রেক্সিট কার্যকর করতে তৎপর। এমনকি অতি শিগগিরই ব্রিটেনের সংসদে চুক্তি অনুমোদনের পাশাপাশি ইইউ-র সঙ্গে চূড়ান্ত আলোচনায় বসছে। এক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা পরে হবে। অর্থাৎ ৩১ জানুয়ারি ব্রেক্সিট কার্যকর করার পথে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সামনে আর কোনো বাধা নেই। ৭ জানুয়রি থেকে ইতোমধ্যে সংসদের নিম্নকক্ষে ইইউ-র সঙ্গে বিচ্ছেদ চুক্তি নিয়ে তিন দিনের বিতর্ক শুরু হয়। বিতর্ক শেষে সেই লক্ষ্যে আইন প্রণয়ন করা হবে। আইন প্রণয়ন নিশ্চিত, কারণ ক্ষমতাসীন টোরি দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে কোনো বাধার আশঙ্কা নেই। ইউরোপীয় ইউনিয়নকেও ৩১ জানুয়ারির মধ্যে ব্রেক্সিট চুক্তি অনুমোদন করতে হবে। এমন প্রেক্ষাপটে ৮ জানুয়ারি লন্ডনে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডেয়ার লাইয়েনের সঙ্গে বৈঠকে তিনি খুঁটিনাটি বিষয়গুলির নিষ্পত্তি করতে চান। ইইউ-র প্রধান মধ্যস্থতাকারী মিশেল বার্নিয়েও সেই আলোচনায় উপস্থিত থাকবেন। ডিসেম্বর মাসে নির্বাচনে জয়ের পর জনসন এই প্রথম ইইউ শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসছেন। ব্রেক্সিট কার্যকর হবার পর দুই পক্ষের মধ্যে ভবিষ্যৎ সম্পর্কের বিষয়টিও স্থির করতে হবে। চলতি বছর শেষ হবার আগেই সেই কঠিন কাজ শেষ করার জন্য চাপ রয়েছে। জনসনও এই সময়সীমার মধ্যে বিষয়টির নিষ্পত্তি করতে চান। কোনো কারণে ব্রিটেন ও ইইউ সমঝোতায় আসতে না পারলে চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের দুঃস্বপ্ন আবার বাস্তব হয়ে উঠবে। তবে ৮ জানুয়ারিই এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হবে না বলে ইইউ কমিশন জানিয়ে দিয়েছে। ৩১ জানুয়ারি ব্রিটেন ইইউ ত্যাগ করার পরই সেই সংলাপ শুরু হবে। ব্রেক্সিট কার্যকর হবার পরেও ফেব্রুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে ব্রিটেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সম্পর্কে তেমন কোনো পরিবর্তন হবে না। এই অন্তর্র্বর্তীকালীন পর্যায়ে ভবিষ্যৎ সম্পর্কের রূপরেখা স্থির করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী জনসন জানিয়েছেন, ব্রেক্সিটের জন্য তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে অপেক্ষার পর ব্রিটেন ও ইইউ-র নাগরিকরা ঠিক সময়ে বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত হবে বলে আশা করছেন। বরিস জনসন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ব্রিটেন ভবিষ্যতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিধিনিয়ম মেনে চলতে চায় না। ইইউ-র অভ্যন্তরীণ বাজারের নাগাল পেতে হলে এগুলি মেনে চলতে হয়, নরওয়ে যেমনটা করে আসছে। তার বদলে তিনি অনেকটা ক্যানাডার সঙ্গে ইইউ-র মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আদলে বোঝাপড়া করতে চান। বিরোধীদের আশঙ্কা, মাত্র এগারো মাসের মধ্যে জনসন কোনো চুক্তিই চূড়ান্ত করতে পারবেন না। সে ক্ষেত্রে হয় আলোচনার সময়সীমা বাড়াতে হবে, অথবা কোনো চুক্তি ছাড়াই ইইউ-র সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের পথ বেছে নিতে হবে। সে ক্ষেত্রে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সাধারণ বিধিনিয়ম কার্যকর হবে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..