পারমাণবিক চুক্তির সীমা মানবে না ইরান

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : ইউরোনিয়াম সমৃদ্ধকরণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আরোপিত আর কোনো সীমারেখা মানবে না ইরান। কুদস ফোর্সের প্রধান কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার পর তারা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক ঘোষণায় বলা হয়, ২০১৫ সালে বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলো তাদেরকে যে সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছিল তা আর মানা হবে না। গেল ৫ জানুয়ারির এক ঘোষণায় বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির মূল শর্ত থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে ইরান। তাদের এমন ঘোষণায় চুক্তিটি মেনে চলতে ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ফ্রান্স, জার্মানি ও ব্রিটেন। এ চুক্তিটি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ৫টি স্থায়ী সদস্য ও জার্মানির সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে স্বাক্ষর করেছিল ইরান। এর অধীনে তাদেরকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখা হয়েছিল। আর ওই চুক্তিটি করিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত খবরে বলা হয়েছে, এখনও ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে সমঝোতার জন্য উন্মুক্ত ইরান। এই ইউরোপীয় অংশীদাররা যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ সত্ত্বেও তেহরানের অশোধিত তেল বিক্রির সুযোগ করে দিতে সক্ষম হয়নি এখনও। ইরানের সঙ্গে সম্পাদিত ঐতিহাসিক ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি থেকে ২০১৮ সালের মে মাসে একতরফাভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন ট্রাম্প। তারপর থেকে এবারই প্রথম ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুস্পষ্ট ঘোষণা দিলো। তবে এই ঘোষণায় আঞ্চলিক প্রতিপক্ষ ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা আরো তুঙ্গে উঠবে। কারণ, ইসরাইল প্রতিশ্রতি দিয়েছে যে, তারা কখনোই ইরানকে পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে দেবে না। ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচিতে করা চুক্তির ধারা অনুসরণ করতে আহ্বান জানিয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মারকেল, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। তারা এ বিষয়ে একটি যৌথ বিবৃতিও দিয়েছেন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পারমাণবিক চুক্তির অধীনে পড়ে না এমন সব রকম পদক্ষেপ থেকে ইরানকে সরে আসার আহ্বান জানাই আমরা। এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক শক্তি কমিয়ে দিতে চায় মার্কিন কংগ্রেস। এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব ভোটে দেয়ার কথা বলেছেন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ, প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি। ন্যান্সি বলেছেন, এ সপ্তাহেই যুদ্ধের ক্ষমতা সম্পর্কিত একটি বিল প্রতিনিধি পরিষদে উত্থাপন করা হবে এবং তা ভোটে দেয়া হবে। এই প্রস্তাবে ইরানের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সামরিক শক্তি ব্যবহারের ক্ষমতা সীমিত করার কথা বলা হয়েছে। এক বিবৃতিতে ন্যান্সি পেলোসি বলেছেন, এর আগে সিনেটর টিম কেইন একই রকম প্রস্তাব জমা দিয়েছেন সিনেটে। এবার যে প্রস্তাবটি আসছে তাও একই রকম। এতে কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের তদারকির ক্ষেত্রে বলা হয়েছে যে, যদি আর কোনো কংগ্রেসনাল পদক্ষেপ না নেয়া হয়, তাহলে ইরানের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক সামরিক শত্রুতা বন্ধ হতে হবে ৩০ দিনের মধ্যে। এই প্রস্তাবটি সহজেই হয়তো ডেমোক্রেট নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি পরিষদে পাস হবে। কিন্তু সিনেটে তা পাস হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। কারণ, সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ হলো ট্রাম্পের রিপাবলিকানরা। তাদের বেশিরভাগই ইরান ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পক্ষে সমর্থন দিয়েছেন। আর ইরাক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের এবং বিদেশি সেনাদের প্রত্যাহার চেয়ে ইরাকি পার্লামেন্টে প্রস্তাব পাস হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কড়া জবাব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মার্কিন সেনাদের প্রত্যাহার করা হলে ইরাকের বিরুদ্ধে ইরানের চেয়েও কড়া অবরোধ দেয়া হবে। কিন্তু তার এমন হুমকি সহায়ক নয় বলে মন্তব্য করেছেন জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেইকো ম্যাস। তিনি বলেছেন, ইরাকের বিরুদ্ধে অবরোধের যে হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র তা কোনো সাহায্য করবে না। এক্ষেত্রে আলোচনার মাধ্যমে ওই দেশটিকে বুঝিয়ে আয়ত্তে আনতে হবে। কোনো হুমকি দেয়া যাবে না। অন্যদিকে ২০১৫ সালে সম্পাদিত পারমাণবিক চুক্তি না মানার যে ঘোষণা দিয়েছে ইরান তা নিয়ে ৬ জানুয়ারি বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতি দেয় জার্মানি, ব্রিটেন ও ফ্রান্স। যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘকে চিঠি দিয়ে কাসেম সোলেমানি হত্যার যুক্তি তুলে ধরেছে এবং পরিস্থিতি যাতে আরো উত্তেজনার দিকে না যায় সেজন্য ইরানের সঙ্গে আলোচনার দ্বার খোলা আছে বলেও জানিয়েছে। চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, তারা আত্মরক্ষার্থেই শীর্ষ ইরানি কমান্ডার সোলেমানিকে হত্যা করেছে। এ হত্যার বদলায় মার্কিন বাহিনীর ওপর ইরানের পাল্টা হামলার পর এখন যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা প্রশমনে ইরানের সঙ্গে কোনোরকম পূর্বশর্ত ছাড়া গুরুগম্ভীর আলোচনায় বসতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে চিঠিতে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরাকের বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন হামলায় নিহত হন ইরানের প্রভাবশালী কমান্ডার সোলেমানি। এর বদলা নিতেই ইরান ইরাকের দুটি মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। ট্রাম্প এর পাল্টা জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..