‘চাহিবামাত্র’

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : টাকার মধ্যে লেখা থাকে ‘চাহিবামাত্র উহার বাহককে দিতে বাধ্য থাকিবে’। বাংলাদেশের ঘুষের ব্যাপারটাও যেন প্রায় এরকমটাই হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা টাকা চাহিলেই- জনগণ দিতে বাধ্য থাকিবে। এটা যেন একটা অনির্ধারিত রীতিতে পরিণত হয়েছে। অবস্থা এখন এমন জায়গায় গিয়ে ঠেকেছে- সবাই চাকরি নেওয়ার আগে চিন্তা করেন, ‘উপরি’ কী পরিমাণ আছে। চাকরিতে ‘উপরি’ না থাকলে সেই চাকরির যেন কোনো মর্যাদাই নেই। অবশ্য এটা ঠিক, টাকা দিয়েই যদি চাকরি নিশ্চিত করতে হয়, তাহলে চাকরিওয়ালা যে নিজের ‘উপরিটা’ নিশ্চিত করবেন- সেটা আর অবাক কী! আবার এটাও ঠিক, বদ লোকের ছুতার কোনো অভাব হয় না। যিনি দুই হাতে ঘুষ খান, তার জন্য অবশ্য সবই অজুহাত। গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সম্প্রতি দিনাজুরের পার্বতীপুর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে ঘুষের প্রায় দুই কোটি টাকাসহ আটক করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত ৯ জানুয়ারি সন্ধ্যায় দুদকের দিনাজপুরের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আশিকুরের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে এ অর্থ জব্দ করা হয়। এরপরই আলোচনা শুরু হয়েছে, এক উপজেলার প্রকল্প কর্মকর্তার ঘরেই যদি ঘুষের দুই কোটি টাকা পাওয়া যায়, তাহলে অন্যান্য জায়গায় তার আর কী পরিমাণ অবৈধ টাকা আছে? তার চেয়ে বড় কথা- উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা তো চুুনোপুটি। জেলা, বিভাগ বা তার উপরে যারা আছে তাদের অবস্থাটা আসলে কী? দুদক জানিয়েছে, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তাজুল ইসলাম দেড় বছর ধরে পার্বতীপুরে আছেন। তার অফিস ও বাসা থেকে মোট এক কোটি ৮৫ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রকল্পের কমিশন হিসেবে এই টাকা নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাজুলের বাড়ি কুড়িগ্রামের রাজারহাটে। তিনি একাই উপজেলা কমপ্লেক্সের ভেতর পরিবার নিয়ে থাকতেন।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..