মূল্যস্ফীতি পৌনে ৬%, জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে সাড়ে ৬%

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : গত বছরের ডিসেম্বরে দেশে সাধারণ মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ হয়েছে। এর মধ্যে গ্রামে মূল্যস্ফীতি শহরের তুলনায় বেশি ছিল। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে সাধারণ মূল্যস্ফীতি ছিল ৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো এ তথ্য দিয়েছে। এদিকে ২০১৯ সালে পেঁয়াজ, চালের মতো নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের মানুষের গড় জীবনযাত্রার ব্যয় সাড়ে ৬ শতাংশ বেড়েছে বলে জানিয়েছে ভোক্তা অধিকার রক্ষা নাগরিক সংগঠন ক্যাব। সংগঠনটির পর্যবেক্ষণ, গত বছর পেঁয়াজসহ মসলার উচ্চমূল্য জীবন যাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। এর মধ্যে সেপ্টেম্বরের পর থেকে পেঁয়াজ নিয়ে নাকাল হতে হয়েছে ভোক্তাদের। এই নিত্যপণ্যের দাম ৬-৭ গুণ বেড়ে প্রতি কেজি ২০০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। দাম বাড়ে আদা-রসুনেরও। বছরের শেষ দিকে এসে চাল, আটা, ডিম, শাকসবজির দামও বেড়ে গেছে। এক সংবাদ সম্মেলনে ক্যাবের চেয়ারম্যান গোলাম রহমান বলেছেন, আগের বছরের তুলনায় ২০১৯ সালে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং পণ্য ও সেবার মূল্য বেড়েছে ৬ দশমিক ০৮ শতাংশ। অন্যদিকে ২০১৮ সালে এই পণ্য ও সেবার মূল্য বৃদ্ধির হার ছিল যথাক্রমে ৬ শতাংশ ও ৫ দশমিক ১৯ শতাংশ। ২০১৭ সালে ছিল যথাক্রমে ৮ দশমিক ৪৪ শতাংশ ও ৭ দশমিক ১৭ শতাংশ। রাজধানীর ১৫টি খুচরা বাজার এবং সেবাদাতা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ১১৪টি খাদ্যপণ্য ২৩টি নিত্য ব্যবহার্য সামগ্রী ও ১৪টি সেবার তথ্য পর্যালোচনা করে এই হিসাব বের করেছে ক্যাব। তবে বরাবরের মতোই শিক্ষা, চিকিৎসা ও প্রকৃত যাতায়াতকে হিসাবে রাখা হয়নি। গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারি মাসে পেঁয়াজের দাম ছিল প্রতি কেজি ২০ থেকে ২৫ টাকা। নভেম্বর মাসে তা খুচরা বাজারে বিক্রি হয়েছে ২৫০ বা তার চেয়েও বেশি। ডিসেম্বরে উৎপাদন মৌসুমেও পেঁয়াজের দাম একশ থেকে দেড়শ টাকার মধ্যে ছিল। গড়ে ২০১৯ সালে দেশি পেঁয়াজের দাম বেড়ে ৪৯ দশমিক ৫২ শতাংশ এবং আমদানিকৃত পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৭১ দশমিক ১১ শতাংশ । অন্যান্য মসলা জাতীয় পণ্যের মধ্যে এলাচের দাম বেড়েছে প্রকারভেদে কেজি প্রতি ৩২ দশমিক ৪৭ থেকে ৪১ দশমিক ২১ শতাংশ। দেশি আদার দাম বেড়েছে ১২দশমিক ৪ শতাংশ এবং আমদানি করা আদার দাম বেড়েছে ১৬ দশমিক ৬ শতাংশ। দেশি রসুনের দাম বেড়েছে ১২ দশমিক ৩৩ শতাংশ, আমদানি করা রসুনের দাম বেড়েছে ৭ দশমিক ১৬ শতাংশ। ক্যাবের বিবেচনায় ২০১৯ সালে শাক সবজির দাম বেড়েছে গড়ে ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে পটলের দাম ৫২ দশমিক ৪৯ শতাংশ। মুরগির দাম বেড়েছে ২২ দশমিক ৫০ শতাংশ, গরু-খাসির মাংসের দাম বেড়েছে ২ দশমিক ৭০ শতাংশ। তরল দুধের দাম বেড়েছে ১০ দশমিক ৩৩ শতাংশ, চা পাতার দাম বেড়েছে ১৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ। খেজুর গুঁড়ের দাম বেড়েছে ৩৮ দশমিক ৯৪ শতাংশ, নারিকেল তেলের দাম বেড়েছে ৬ শতাংশ। দেশি থান কাপড়ের দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ; বিদেশি থান কাপড়ের দাম বেড়েছে ৬ দশমিক ০৯ শতাংশ; গেঞ্জি, গামছা, তোয়ালের দাম বেড়েছে ৮ দশমিক ৮৭ শতাংশ। একই সময়ে বস্তির ঘর ভাড়া বেড়েছে ১০ শতাংশ, মেসের ভাড়া বেড়েছে ৮ শতাংশ, বাসাবাড়িতে দুই বার্নারের গ্যাসের চুলার ব্যয় বেড়েছে ২২ শতাংশ, ওয়াসার পানির দাম বেড়েছে ৫ শতাংশ। ক্যাবের হিসেবে ২০১৯ সালে আগের বছরের তুলনায় চাল-ডাল-ভোজ্য তেল-লবণ সাবান, পান-সুপারি ইত্যাদি পণ্যের দাম কমেছে। ‘এছাড়া প্রতি মণে সাতশ’ টাকা থেকে সাড়ে ৭০০ টাকা আমন ধানের উৎপাদন খরচ পড়লেও কৃষক দাম পাচ্ছে না। উল্টো চালের দাম বাড়ছে,’ বলেছেন ক্যাব নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন।
প্রথম পাতা
করোনা প্রসঙ্গ: দেশ-দুনিয়াকে বদলাতে হবে
‘বাম-গণতান্ত্রিক বিকল্প বলয় গড়ে তোলার কাজে তার অবদান অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে’
করোনাকালের অর্থনীতি, করোনাত্তোর অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও আগামী বাজেটে অগ্রাধিকার খাত কি হওয়া উচিৎ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা
বাণিজ্যিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বদল ঘটিয়ে ‘গণস্বাস্থ্য ব্যবস্থা’ গড়ে তুলতে হবে
কোভিডের চিকিৎসা নিয়ে কোনোরকম ব্যবসা চলবে না
‘জাতীয় দুর্যোগ’ ঘোষণা করে চিকিৎসার সকল দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে
সরকার মানুষকে অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে
প্রতিদিনকার কোভিড মোকাবেলার মাঝে অর্থনীতির চাকা সচল করতে চীনের সর্বাত্মক প্রচেষ্টাঃ উদ্যোগ ও সাফল্য

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..