অরাজকতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
অনিরুদ্ধ দাশ অঞ্জন : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর ধর্ষণের বিচারের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস বেশ কয়েকদিন ধরে উত্তাল। বিক্ষোভে উত্তাল দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও। ছাত্রীটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে ক্যাম্পাস থেকে বের হয়েছিলেন। সন্ধ্যা ৭টার দিকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের কাছে বাস থেকে নামার পর, সেখান থেকে তুলে নিয়ে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। তাঁর হাত-পায়ে, সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন। তীব্র মানসিক যন্ত্রণা নিয়ে এখনও তিনি চিকিৎসাধীন। এই যন্ত্রণা তাঁকে সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীটি ধর্ষণের শিকার হয়ে যখন হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন, ধর্ষণের প্রতিবাদে গোটা বিশ্ববিদ্যালয় উত্তাল, তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান সাহেব ‘বঙ্গবন্ধু টিচার্স ক্রিকেট লিগ’-এর উদ্বোধন করলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে তিনি ব্যাট হাতে দাঁড়িয়ে আছেন আর তাঁর পারিষদ হাস্যোজ্জ্বল মুখে করতালি দিচ্ছে। এ রকমই একটা ছবি বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। উপাচার্য সাহেবের কাণ্ডজ্ঞান এতটাই কম যে, মশকরা করার সময়টাও ঠিক বুঝতে পারেন না! সমাজের উচ্চ স্তরে অবস্থান করা একজন বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রী যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়েরই বাস থেকে নামার পর সন্ধ্যার সময় ধর্ষণের শিকার হন, সেখানে এ দেশের সাধারণ নারীদের অবস্থা যে কতটা খারাপ তা সহজেই অনুধাবন করা যায়। সরকার ‘নারী উন্নয়নে’র কথা বলছে, কিন্তু ঘরে-বাইরে নারীর নিরাপত্তা আগের চেয়ে আরও বেশি হুমকির মধ্যে পড়ছে। নারীর ওপর সহিংসতা বাড়ছেই। প্রতিদিনের পত্রিকা পড়লেই সেটা বোঝা যায়। কিন্তু পত্রিকায় তো আর সব খবর আসে না। নারী নির্যাতনের বেশির ভাগ ঘটনাই আড়ালে থেকে যায়। জানার চেয়ে অজানাই রয়ে যায় বেশি। পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, ৮০ ভাগ নারী বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার। বিচার চাইতে গিয়ে নির্যাতিত নারীকে আবারও নির্যাতনের মুখে পড়তে হয়। আবার নিপীড়নের দায় নিপীড়িত নারীর ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়। তাইতো নারী নিপীড়নের অধিকাংশ ঘটনার ক্ষেত্রেই আক্রান্ত নারীকে নীরবে চেপে যেতে হয়। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ৭ জানুয়ারি এক প্রতিবেদনে গত বছরের (২০১৯ সাল) নারী নির্যাতনের যে চিত্র তুলে ধরেছে, তা এক কথায় ভয়াবহ। ১৪টি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে মহিলা পরিষদ এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে। প্রতিবেদনের তথ্য মতে, গত বছর (জানুয়ারি-ডিসেম্বর) ১ হাজার ৭০৩ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়। এর মধ্যে গণধর্ষণের শিকার হয় ২৩৭ জন। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় ৭৭ জনকে। ধর্ষণের ঘটনায় আত্মহত্যা করে ১৯ জন। বছরটিতে ২৪৫ জনকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয় ৪ হাজার ৬২২ জন নারী ও শিশু। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত বছর অ্যাসিড আক্রমণের শিকার হয় ২৪ জন। বিভিন্ন কারণে ৬৩২ জন নারী ও কন্যাশিশুকে হত্যা করা হয়। বিভিন্ন নির্যাতনের কারণে ২৬৪ জন আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়। ২৮৭ জনের রহস্যজনক মৃত্যু হয়। ফতোয়ার শিকার হয় ২৪ জন। বাল্যবিবাহের ঘটনা ঘটেছে ৯৭টি ও বাল্যবিবাহ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে ১৬৯ জনকে। আতঙ্কের বিষয় হচ্ছে, ২০১৮ সালের চেয়ে ২০১৯ সালে নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে প্রায় দ্বিগুণ। মহিলা পরিষদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪, ২০১৫, ২০১৬, ২০১৭ ও ২০১৮ সালে ধর্ষণের শিকার হয়েছে যথাক্রমে ৬৬৬, ৮০৮, ৮৪০, ৯৬৯, ৬৯৭ জন নারী ও কন্যাশিশু। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে যথাক্রমে ৯৯, ৮৫, ৪৪, ৫৮, ৬৩ জনকে। দেশে ধর্ষণ ও ধর্ষণ পরবর্তী হত্যার মতো অপরাধ বেড়ে যাওয়ায়, ২০১৯ সালের ২০ আগস্ট ক্ষোভ প্রকাশ করে উচ্চ আদালত। ওই সময় হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণে বলেন, দ্রুততম সময়ে অপরাধীদের বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় ধর্ষণের মতো অপরাধ বেড়েছে। ২০১৮ সালে ব্র্যাক পরিচালিত ‘নারীর জন্য যৌন হয়রানি ও দুর্ঘটনামুক্ত সড়ক’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, দেশের গণপরিবহনে যাতায়াতের সময় ৯৪ শতাংশ নারী মৌখিক, শারীরিক বা অন্য কোনোভাবে যৌন হয়রানির শিকার হন। নিরাপত্তা বিষয়ক বিভিন্ন সূচক থেকে এ কথা স্পষ্ট যে, বাংলাদেশ দিনদিন অনিরাপদ হয়ে উঠছে। আর নারীর বেলায় তা ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। ২০১৮ সালে জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট ফর উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি এবং অসলোর পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের যৌথ উদ্যোগে ‘দ্য উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি ইনডেক্স’ শিরোনামে গবেষণা পরিচালিত হয়। এতে নারীর জীবনমান এবং সমাজ, গোষ্ঠী ও পরিবারে নারীর ক্ষমতায়ন, নিরাপত্তা সূচকসহ বিভিন্ন সূচক বিবেচনায় নেওয়া হয়। এই গবেষণায় বাংলাদেশের অবস্থান দাঁড়ায় ১৪২তম। সমাজ, রাষ্ট্র, সরকার ধর্ষক, নিপীড়কদের রক্ষা করছে। দেশে এখন নানাভাবে ক্ষমতার দাপট দেখানো হচ্ছে। পুরুষতন্ত্রের দাপট নারীকে অসহায় করে তুলেছে। বিদ্যমান আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক পরিস্থিতি নারীর একেবারেই বিরুদ্ধে। ঘরে, বাইরে কোথাও নারী নিরাপদ নন। সোহাগী জাহান তনুর ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের কথা আমরা ভুলে যাইনি। কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় তাঁকে ধর্ষণের পর হত্যা করে ঝোঁপের মধ্যে ফেলে রাখা হয়। আজও এই হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি, বরং ধামাচাপা দেয়া হয়েছে। ফেনীর সোনাগাজীতে নুসরাত জাহানকে আগুনে পুড়িয়ে মারা হয়েছিল। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলা তার অফিসকক্ষে ডেকে নুসরাতকে শ্লীলতাহানি করেছেন-এই অভিযোগে মামলা করেছিলেন নুসরাতের মা। এরই জেরে অধ্যক্ষের নির্দেশে পাঁচজন নুসরাতের হাত-পা বেঁধে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। চার দিন পর নুসরাত মারা যান। বর্তমান পরিস্থিতির দায় সরকার কিছুতেই এড়াতে পারে না। বিদ্যমান নিপীড়নের ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে চলছে সরকার। কেউ কেউ বলে থাকেন, ধর্ষক-নিপীড়কদের কোনো দল নেই। মতলববাজরাই কেবল এমন কথা বলতে পারে। ধর্ষক-নিপীড়কদের দলীয় পরিচয় আড়াল করার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে। শাসকশ্রেণির দলগুলোই ধর্ষক-নিপীড়কদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়। সরকারি দলের অনেক নেতাকর্মী ধর্ষণ-নিপীড়নের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। দেশটা এখন তাদের কাছে ‘মগের মুল্লুক’! বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার ‘অপরাধে’ নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ভোটের পরদিন রাতে আওয়ামী লীগের ১০-১২ জন কর্মী এক নারীকে গণধর্ষণ করেছিল। বগুড়ায় শ্রমিক লীগ নেতা তুফান সরকার এক কিশোরীকে ধর্ষণ করেছিল। বিচার চাইতে গেলে ধর্ষিত মেয়ে ও তার মাকে মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া হয়েছিল। শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জের ছাত্রলীগ নেতা আরিফ হোসেন হাওলাদার ৬ নারীকে ধর্ষণ করে এবং ধর্ষণের ভিডিওচিত্র ছেড়ে দিয়েছিল ইন্টারনেটে। পটুয়াখালীর বাউফলে মা ও মেয়েকে ট্রলারে তুলে চরে নিয়ে যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের ৬ নেতাকর্মী গণধর্ষণ করেছিল। এ রকম অনেক ঘটনাই বিভিন্ন সময় পত্রিকায় উঠে এসেছে। গণতন্ত্রের অনুপস্থিতি নিপীড়কদেরকেই সুবিধা করে দিচ্ছে। বিচারহীনতা ধর্ষক-নিপীড়কদের উৎসাহিত করছে। কোনো ঘটনারই যে বিচার হচ্ছে না, তা নয়। তবে সংখ্যাটা একেবারেই নগণ্য। ধর্ষণ-নিপীড়নের হাতে গোনা ঘটনাই আলোচনায় উঠে আসে। মিডিয়া সাপোর্ট করে। একটা সময় আবার হারিয়ে যায়। চোখের আড়ালে থেকে যায় অধিকাংশ ধর্ষণ-নিপীড়নের খবর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীর ধর্ষণের বিচারের দাবিতে যখন আন্দোলন চলছে, তার মধ্যেই এক গার্মেন্টকর্মী ধর্ষিত হওয়ার খবর চাপা পড়ে গেছে। আশার কথা, বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রীর ধর্ষণের বিচার চেয়ে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন গড়ে তুলেছেন। ধর্ষণের বিরুদ্ধে, অরাজকতার বিরুদ্ধে নানা ফর্মে আন্দোলন শুরু হয়েছে। নিপীড়নের বিরুদ্ধে চিলিতে শুরু হওয়া ফ্লাশমবটি এখন সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। ‘তুই ধর্ষক’ শিরোনামে বাংলাদেশের মেয়েরা ফ্লাশমবটি উপস্থাপন করছেন। ‘প্রীতিলতা ব্রিগেডে’র মেয়েরা লাঠি হাতে আন্দোলনে নেমেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আন্দোলনের নতুন মাধ্যম হয়ে উঠেছে। অরাজকতার বিরুদ্ধে তরুণরা সোচ্চার হচ্ছেন। আমরা আরও আশাবাদী হতে পারব সেদিন, যেদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শুধু শিক্ষার্থীর ধর্ষণের বিচার চেয়ে নয়, গার্মেন্টকর্মীর ধর্ষণেরও বিচার চেয়ে তুমুল আন্দোলন গড়ে তুলবেন। ৩১ ডিসেম্বর আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) ২০১৯ সালের মানবাধিকার প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে সংগৃহীত তথ্য নিয়ে তৈরি করা মানবাধিকার প্রতিবেদনে আসক বলছে, নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনাসমূহ ছিল ২০১৯ সালের অন্যতম একটি উদ্বেগের বিষয়। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধর্ষণ, গণধর্ষণ, যৌন হয়রানি, নির্যাতন ও হত্যার মতো ঘটনা বাড়ছে। নারী নির্যাতনের পরিসংখ্যানের পাশাপাশি মানবাধিকারের অন্যান্য ক্ষেত্রের পরিসংখ্যানও সংস্থাটি তুলে ধরেছে। সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনী ক্রসফায়ারসহ বিচারবহির্ভূতভাবে ৩৫৬ জনকে হত্যা করেছে। মনে পড়ে, এর আগে বিচারবহির্ভূতভাবে কথিত ‘ধর্ষক’দের ধারাবাহিকভাবে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকারীর পরিচয় হিসেবে ‘হারকিউলিস’-এর নাম ব্যবহার করা হয়েছে। আসক-এর উল্লিখিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে (গ্রেফতারের পর) ১৪ জন মারা যান। এছাড়া গ্রেফতারের আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্যাতনে মারা যান ৬ জন এবং গুলিতে নিহত হন ১২ জন। ২০১৯ সালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অপহরণ, গুম করে ১৩ জনকে। এর মধ্যে পরবর্তী সময়ে ৫ জনের সন্ধান পাওয়া গেছে এবং এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছেন ৮ জন। সব মিলিয়ে এক চরম অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের অন্যতম ট্রাস্টি, ছায়ানটের নির্বাহী সভাপতি, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ডা. সরওয়ার আলী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা হয়েছে। দুর্বৃত্তরা তাঁর উত্তরার বাড়িতে ঢুকে হামলা করেছে। এর আগেও বাড়িতে ঢুকে হত্যা করার ঘটনা ঘটেছে। সরকার কোনো দায় নেয়নি। সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, সরকারের পক্ষে কারও বেডরুম পাহারা দেয়া সম্ভব নয়। নাগরিকদের নিরাপত্তা দেয়া যদি সরকারের কাজ না হয়, তবে সরকারের কাজ কী? নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী যখন এমন মন্তব্য করেন, তখন দুর্বৃত্তরা আশকারা পায়। কয়েকদিন আগে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. জোবাইদা নাসরিন। বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শাড়ি বিতরণের সময় ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। হলের আবাসিক শিক্ষক জোবাইদা সংঘর্ষ থামাতে গেলে, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাঁর ওপর হামলা চালায় এবং তিনি আহত হন। এর কয়েকদিন আগে ডাকসুতে ন্যাক্কারজনক হামলা চালিয়েছিল ছাত্রলীগ। বুয়েটে আবরার ফাহাদের নির্মম হত্যাকাণ্ডের কথা মানুষের স্মৃতি থেকে এখনও হারিয়ে যায়নি। ঘুষকাণ্ডের পর ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক পদ হারালেন। তবুও ছাত্রলীগ তার জায়গাতেই আছে। অরাজকতা থামছে না, চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। গণতন্ত্র যেখানে নির্বাসিত সেখানে অরাজকতা বাড়তেই থাকে। সেটা এখন দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশে। মানুষ অরাজকতা থেকে মুক্তি চায়। অরাজকতার বিরুদ্ধে জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। অপরাজনীতির বিপরীতে জনগণের পক্ষের রাজনীতির উত্থান ঘটাতে হবে। সর্বশক্তি দিয়ে অরাজকতা রুখে দাঁড়াতে হবে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..